সর্বশেষ সংবাদ
December 14, 2017 - আট বছর পর বাংলাদেশে ত্রিদেশীয় সিরিজ
December 14, 2017 - শহীদ বুদ্ধিজীবী স্মৃতিসৌধে খালেদা জিয়ার শ্রদ্ধা
December 14, 2017 - প্রধানমন্ত্রী দেশে ফিরেছেন
December 14, 2017 - শহীদ বুদ্ধিজীবীদের প্রতি রাষ্ট্রপতির শ্রদ্ধা নিবেদন
December 14, 2017 - শ্রদ্ধা আর ভালোবাসায় শহীদ বুদ্ধিজীবীদের স্মরণ
December 14, 2017 - ইউটিউবে খেলনা দেখিয়ে কোটিপতি ছয় বছরের রায়ান
December 14, 2017 - ফরাসি বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চল স্থাপনের প্রস্তাব- প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা
December 14, 2017 - রোহিঙ্গা ইস্যু ওআইসি নীরব থাকতে পারে না-রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ
December 14, 2017 - জলবায়ু সম্মেলন বিশ্বের নজর কাড়লেন মাক্রোঁ
December 12, 2017 - বিচার বিভাগের স্বাধীনতা আবারো প্রশাসনের হাতে গিয়েই পড়লো
এইচআইভি আক্রান্ত রোহিঙ্গা ৫০০০

এইচআইভি আক্রান্ত রোহিঙ্গা ৫০০০

মিয়ামারের রাখাইন থেকে নির্যাতনের শিকার হয়ে বাংলাদেশে আসা রোহিঙ্গাদের মধ্যে অন্তত পাঁচ হাজার এইচআইভি আক্রান্ত বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে৷ তাঁদের মধ্যে মঙ্গলবার পর্যন্ত ৯৭ জনকে তলিকাভুক্ত করা হয়েছে৷তবে প্রতিদিনই এই সংখ্যা বাড়ছে৷

২৫ আগস্ট থেকে এ পর্যন্ত মিয়ানমার থেকে ৬ লাখ ৩০ হাজার রোহিঙ্গা নারী, শিশু ও পুরুষ বাংলাদেশে পালিয়ে এসেছেন৷ পালিয় আসা যে ৯৭ জন রোহিঙ্গাকে এইচআইভি পজেটিভ বলে শনাক্ত করা হয়েছে, তাঁদের মধ্যে ১৫ জন শিশু, ৩৩ জন পুরুষ ও ৪৯ জন নারী৷

কক্সবাজার জেলা সিভিল সার্জন ডা. আব্দুস সালাম ডয়চে ভেলেকে জানিয়েছেন, ‘‘আজকে (মঙ্গলবার) দিনের শেষে এই সংখ্যা ১০০ ছাড়িয়ে যাবে৷ প্রতিদিনই আক্রান্তের সংখ্যা বাড়ছে৷”

তিনি আরো জানান, ‘‘যাঁদের শনাক্ত করা হয়েছে, তাঁদের মধ্যে পাঁচজন নতুন আক্রান্ত৷ তাঁরা কক্সবাজারের ক্যাম্পেই আক্রান্ত হয়েছেন৷ বাকিরা মিয়ানমারে থাকাকালীনই এইচআইভি পজেটিভ ছিলেন৷”

ইউনিসেফ এইডস বিশেষজ্ঞ ড. এম জিয়া উদ্দিন সংবাদমাধ্যমকে জানান, ‘‘মিয়ানমারে এইচআইভি বহনকারীর সংখ্যা ০ দশমিক ৮ ভাগ৷ সেই হিসেবে বাংলাদেশে আসা রোহিঙ্গাদের মধ্যে ৫ হাজার রোহিঙ্গা এইচআইভি আক্রান্ত৷”

‘আমাদের ধারণা, পাঁচ হাজারেরও বেশি এইচআইভি আক্রান্ত রোহিঙ্গা বাংলাদেশে এসেছেন’

কক্সবাজার সদর হাসপাতালের আবাসিক মেডিক্যাল অফিসার ও কক্সবাজার এইডস সেন্টারের ফোকাল পয়েন্ট ডা. শাহীন আবদুর রহমান চৌধুরী৷ তিনি ডয়চে ভেলেকে জানান, ‘‘আমাদের ধারণা, পাঁচ হাজারেরও বেশি এইচআইভি আক্রান্ত রোহিঙ্গা বাংলাদেশে এসেছেন৷ মিয়ানমারে এইচআইভি আক্রান্তের হার বেশি হলেও সেটা সেন্ট্রাল মিয়ানমারে৷ আমরা মেডিক্যাল টিমের মাধ্যমে রোগীদের শনাক্ত করছি৷ আবার অনেকে যাঁরা রাখাইনে থাকতেই এইচআইভি পজেটিভ ছিলেন, তাঁরাও সেন্টারে গিয়ে রিপোর্ট করছেন৷ প্রতিদিনই আক্রান্তের সংখ্যা বাড়ছে৷ তাই আজকের যে সর্বশেষ হিসাব, তা কালকে বেড়ে যাবে৷ আমাদের হাতে প্রতিদিনই নতুন কেস আসে৷ তাই সেটা তালিকায় নিতে একটু সময় লাগে৷”

তিনি আরো বলেন, ‘‘আন্তর্জাতিক মান বজায় রেখে আমরা এইচআইভি আক্রান্তরোহিঙ্গাদের চিকিৎসা দিচ্ছি এবং কোনোভাবেই পরিচয় প্রকাশ করছি না৷ তাঁরা যাতে কোনোভাবে কোনো ধরনের সামাজিক সমস্যা বা ‘স্টিগমার’ শিকার না হয়, সেই ব্যবস্থা করছি আমরা৷”

তাঁর কথায়, ‘‘বাংলাদেশে ছয়টি এইচআইভি সেন্টার আছে যার মধ্যে একটি কক্সবাজারে৷ উখিয়া এবং কুতুপালং-এ ক্যাম্প পর্যায়ে যেসব মেডিক্যাল টিম কাজ করছে, তারা এইচআইভি শনাক্ত করার পর রোগীকে সেন্টারে নিয়ে আসে৷ আমরা তাঁদের প্রয়োজনীয় চিকিৎসা নির্ধারণ ও কাউন্সেলিং করি৷ তাঁদের মাধ্যমে এইডস রোগ যাতেনা ছড়ায়, তার কাউন্সেলিংও করা হয়৷ তাঁরা যার যার ক্যাম্পেই থাকেন৷ তবে আমাদের মনিটরিং ও চিকিৎসা অব্যাহত থাকে৷”

তিনি জানান, ‘‘এইচআইভির পরই হেপাটাইটিস-বি আক্রান্ত রোগী নিয়ে আমরা সতর্ক আছি৷”

‘যাঁদের শনাক্ত করা হয়েছে, তাঁদের মধ্যে পাঁচজন নতুন আক্রান্ত, বাকিরা মিয়ানমারে থাকাকালীনই এইচআইভি পজেটিভ ছিলেন”

রোহিঙ্গারা সর্দি, কাশি, জ্বর, ডায়রিয়া, মাথাব্যথা, এমনকি নানা রকমের চর্মরোগেও আক্রান্ত হচ্ছেন৷ সবক্ষেত্রেই তাঁদের সরকারি-বেসরকারিভাবে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে৷ এ সব রোহিঙ্গা রোগীদের জন্য উখিয়ায় ২৭টি ও টেকনাফে ১৪টি মেডিক্যাল টিম কাজ করছে৷ রয়েছে গর্ভবর্তী মা ও নবজাতক শিশুদের জন্য বিশেষ চিকিৎসাও৷হাম, যক্ষ্মা, পোলিও, কলেরা ও ডায়রিয়া রোগ প্রতিরোধ এবং মৃত্যুর ঝুঁকি এড়াতে টিকা ও চিকিৎসাসেবা দেওয়া হচ্ছে রোহিঙ্গা শরণার্থীদের৷ কলেরা রোগ প্রতিরোধে ৯ লাখ রোহিঙ্গাকে টিকা খাওয়ানোর কাজ সম্পন্ন হয়েছে ইতিমধ্যেই৷ এছাড়া অপুষ্টিজনিত শিশুদের বিশেষ টিকা ও খাদ্য দেওয়া হয়েছে৷”

বাংলাদেশে ১২ থেকে ১৪ হাজার মানুষএইচআইভি ভাইরাস বহন করছে৷এশিয়ান এপিডেমিক মডেল অনুযায়ী, বাংলাদেশে এইডস রোগীর সংখ্যা ০ দশমিক ০১ ভাগ৷ তবে বাংলাদেশে চিহ্নিত করা সম্ভব হয়েছে মাত্র ৪,৭২১ জনকে৷ বাংলাদেশের তুলনায় মিয়ানমারে এইচআইভি আক্রান্তের সংখ্যা প্রায় আট গুণ বেশি৷

কক্সবাজারের সিভিল সার্জন আব্দুস সালাম বলেন, ‘‘আমরা এইচআইভি পজেটিভ কোনো রোহিঙ্গা পাওয়ার পর তাঁর পুরো পরিবারকে কাউন্সেলিং-এর আওতায় আনি৷ সচেতন করি, যাতে এই ভাইরাস রোহিঙ্গা ক্যাম্প তো বটেই, লোকালিটিতেও ছড়িয়ে না পড়ে৷ এ জন্য আমাদের স্বাস্থ্যকর্মীরা স্থানীয়ভাবে সচেতনতামূলক কর্মসূচি চালাচ্ছে৷”

তিনি জানান, ‘‘যাঁদের আমরা শনাক্ত করতে পারছি তাঁদের চিকিৎসা দিচ্ছি৷ তবে এই সংখ্যা আরো অনেক বেশি৷ আমরা বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে দেখছি৷”

ডা. শাহীন আবদুর রহমান চৌধুরী বলেন, ‘‘তবে এ নিয়ে আতঙ্কিত হয়ওয়ার কিছু নেই৷ কারণ এটা কোনো ছোঁয়াচে রোগ নয়৷ বাহ্যিক মেলামেশা, একসঙ্গে খাওয়া-দাওয়ায় এই রোগ ছাড়ায় না৷”

Please follow and like us:

About author

Related Articles

Leave a reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Enjoy this blog? Please spread the word :)