সর্বশেষ সংবাদ
কাতার সংকট জিইয়ে রেখেই উপসাগরীয় সম্মেলন শেষ

কাতার সংকট জিইয়ে রেখেই উপসাগরীয় সম্মেলন শেষ

চলমান কাতার সংকট নিয়ে কোনো আলোচনা ছাড়াই শেষ হলো উপসাগরীয় দেশগুলোর অন্যতম জোট গাল্ফ কো-অপারেশন কাউন্সিল জিসিসি’র সম্মেলন৷ দু’দিন ব্যাপী এ সম্মেলন হওয়ার কথা থাকলেও সম্মেলন শুরুর কয়েক ঘন্টার মধ্যেই এর সমাপ্তি টানা হয়৷
জোটের অন্যতম শরিক সৌদি আরবসহ সংযুক্ত আরব আমিরাত, বাহরাইন এবং ওমানের রাষ্ট্রপ্রধানরা শীর্ষ পর্যায়ের এ সম্মেলনে অংশ নেননি৷ এবারের আঞ্চলিক এ সম্মেলনে কাতার যোগ দেয়ার আমন্ত্রণ পাওয়ায় সংকট নিরসনের যে সম্ভাবনা তৈরি হয়েছিল, তা-ও পুরোপুরি ব্যর্থ হয়, যা জোটের অস্তিত্বের জন্য হুমকি হয়ে দাঁড়াতে পারে৷ গত জুনে সৌদি আরবের নেতৃত্বে উপসাগরীয় চারটি দেশ ‘ইসলামপন্থী জঙ্গিদের মদদ’ দেয়ার অভিযোগে কাতারের সঙ্গে সম্পর্ক ছিন্ন করার ঘোষণা দেয়৷ এরপর কুয়েতের নেতৃত্বে গাল্ফ দেশগুলোর মধ্যকার এ সংকট নিরসনে মধ্যস্থতার উদ্যোগও ব্যর্থ হয়৷
তবে কুয়েতের পররাষ্ট্র মন্ত্রী শেখ সাবাহ খালেদ আল-সাবাহ এক সংবাদ সম্মেলনে বলেন, ‘‘সদস্য দেশের যে কোনো প্রতিনিধির উপস্থিতিকেই আমরা স্বাগত জানায়৷ স্পর্শকাতর পরিস্থিতির পরও এ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হওয়ায় এ সংস্থার প্রতি জিসিসি নেতৃবৃন্দের বিশ্বাস ও আস্থা প্রকাশ পেলো৷’’ কাতারের সাথে সংকট শুরুর পর থেকে মধ্যস্ততাকারী দেশ হিসেবে কাজ করছে কুয়েত৷
মুসলমানদের জন্য সেরা ১৫টি দেশ
দশম স্থানে ইন্দোনেশিয়া
৩৬ পয়েন্ট নিয়ে ইন্দোনেশিয়া আছে দশ নম্বরে৷ ইসলামি বিনিয়োগে দেশটি আছে নয় নম্বরে৷ এছাড়া হালাল কসমেটিক্স এবং হালাল ওষুধ বেশি পাওয়া যায় এমন দেশগুলোর মাঝে ইন্দোনেশিয়া আছে অষ্টম স্থানে৷
সম্মেলন শেষে এক বিবৃতিতে জানানো হয়, ২০২৫ সালের মধ্যে পূর্ণাঙ্গ অর্থনৈতিক ঐক্যের লক্ষ্যে সদস্য দেশগুলোর কমন মার্কেট ও কাস্টমস ইউনিয়ন একীভূত করার উপর জোর দেয়া হয়েছে এবারের সম্মেলনে৷ একই সাথে চরমপন্থা ও সন্ত্রাসবাদ মোকাবেলায় দেশগুলোর দৃঢ় অবস্থানও তুলে ধরা হয়৷ এছাড়া, জিসিসি’র পক্ষ থেকে ইয়েমেনের সাবেক রাষ্ট্রপতি আলি আব্দুল্লাহ সালেহ নিহত হওয়ার ঘটনায় শিয়া হুতি বিদ্রোহীদের কঠোর সমালোচনা করা হয়৷ বিবৃতিতে জানানো হয়, ইরানের সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড ও আরব দেশগুলোর নিজস্ব বিষয়ে হস্তক্ষেপের চেষ্টারও নিন্দা জানায় জিসিসি৷ এতে বলা হয়, সন্ত্রাসবাদ মোকাবেলায় যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সাথে কাজ করতে বদ্ধপরিকর জিসিসি৷
এর আগে সম্মেলন শুরুর আগেই সংযুক্ত আরব আমিরাতের পক্ষ থেকে ঘোষণা দেয়া হয়, সৌদি আরবের সাথে রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক ও সামরিক সহযোগিতা বৃদ্ধিতে দু’দেশের মধ্যে একটি সহযোগিতা কমিটি গঠন করা হচ্ছে৷ সংযুক্ত আরব আমিরাতের পররাষ্ট্র মন্ত্রী বলেন, নতুন এ কমিটির কাজ হবে সৌদি আরব ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের মধ্যে সব ধরনের সামরিক, রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক, বাণিজ্যিক ও সাংষ্কৃতিক ক্ষেত্রে সমন্বয় ও সহযোগিতা নিশ্চিত করা৷ সৌদি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমান ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের ক্ষমতাশালী যুবরাজ মোহাম্মদ বিন জায়েদ আল নাহিয়ানের মধ্যে সুসম্পর্কের জেরে কয়েক বছর ধরেই দুদেশের মধ্যে সহযোগিতার ক্ষেত্র সম্প্রসারিত হচ্ছে৷
১৯৮১ সালে উপসাগরীয় দেশগুলোর মধ্যে রাজনৈতিক এবং অর্থনৈতিক একটি জোট গঠনের লক্ষ্যে গাল্ফ কো-অপারেশন কাউন্সিল গঠিত হয়৷ সৌদি আরব, বাহরাইন, সংযুক্ত আরব আমিরাত, কাতার, ওমান ও কুয়েত এই জোটের সদস্য৷

Please follow and like us:

About author

Related Articles

Leave a reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Enjoy this blog? Please spread the word :)