সর্বশেষ সংবাদ
December 10, 2018 - জলবায়ু পরিবর্তনের কুপ্রভাব এড়াতে ক্লাইমেট ইঞ্জিনিয়ারিং
December 10, 2018 - শিশু ক্যান্সার রোগী জয়নবের জন্য অতি দুর্লভ রক্তের খোঁজ চলছে সারা দুনিয়ায়
December 10, 2018 - হামাসের কাছে পরাজয় ভোলার মতো নয়: লিবারম্যান
December 10, 2018 - নিরপেক্ষ দায়িত্ব পালনে ম্যাজিস্ট্রেটদের প্রতি সিইসি’র নির্দেশ
December 10, 2018 - মিডিয়া, সুশীল সমাজকে সজাগ দৃষ্টি রাখার আহবান বাংলাদেশে সত্যিকারের অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন ইউরোপীয় দেশগুলো
December 10, 2018 - অপপ্রচারের বিরুদ্ধে এখন থেকে মামলা করব : ফখরুল
December 9, 2018 - বিশ্ব মানবাধিকার দিবস
December 9, 2018 - দুর্নীতি একটি জাতীয় ব্যাধি : প্রধান বিচারপতি
December 9, 2018 - স্থিতিশীল মধ্যপ্রাচ্য প্রতিষ্ঠায় মনোযোগ দিন: নেতানিয়াহুকে পুতিন
December 9, 2018 - আলোচনায় চূড়ান্ত হয়েছে জাপার প্রার্থী তালিকা : রাঙ্গা
জনগণের ট্যাক্সের টাকা দুর্দশাগ্রস্ত ব্যাংকে পুনর্ভরণ অনৈতিক

জনগণের ট্যাক্সের টাকা দুর্দশাগ্রস্ত ব্যাংকে পুনর্ভরণ অনৈতিক

বাংলাদেশের রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকগুলো সংকট থেকে উদ্ধারের জন্য সরকারের কাছে ২০ হাজার কোটি টাকা চেয়েছে। শুধু সোনালী ব্যাংকই ঋণ সহায়তা হিসাবে চেয়েছে ছয় হাজার কোটি টাকা। এই ঋণ সহায়তা না পেলে কোনো কোনো ব্যাংকের এলসি খোলাও সম্ভব হবে না বলে জানিয়েছে।

সরকার ইতোমধ্যে ব্যাংকগুলো এ মূলধন জোগান দেবার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিতও বলেছেন, ‘আমাদের সময়ে কোনো ব্যাংকের পতন হতে দিতে পারি না। আমাদের সময়ে এ ধরনের পরিস্থিতি হতে দেব না। যে ভাবেই হোক আমরা ব্যাংক রক্ষা করব।’

সরকারি ও বেসরকারি খাতের ৪৮টি ব্যাংকের মধ্যে ১৩টির আর্থিক অবস্থা বেশ খারাপ। এর কারণ রাজনৈতিক প্রভাবসহ নানা মহলের চাপে ব্যাংকগুলো নিয়মবহির্ভূত ঋণ দিয়েছে বা দিতে বাধ্য হয়েছে। সোনালী ব্যাংকের হলমার্ক কেলেঙ্কারি, বেসিক ব্যাংক কেলেঙ্কারির সঙ্গে নতুন যুক্ত হয়েছে জনতা ব্যাংক থেকে এ্যাননটেক্স নামে একটি গ্রুপকে পাঁচ হাজার কোটি টাকা ঋণ দেয়ার ঘটনা। সার্বিকভাবে ব্যাংক খাতে একধরনের নৈরাজ্য চলছে।

ব্যাকিং খাতের সূত্র উদ্ধৃত করে পত্রিকায় খবর বেরিয়েছে যে, রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকগুলো বর্তমানে প্রায় সাড়ে নয় হাজার কোটি টাকার মূলধন ঘাটতিতে রয়েছে। এ ঘাটতি থেকে উত্তরণের জন্য সম্প্রতি অর্থ মন্ত্রণালয়ের ব্যাংকিং ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগ সংশ্লিষ্টদের নিয়ে বৈঠক করে। তাতে কর্মপরিকল্পনা তৈরির বিষয়ে আলোচনা হয়। ওই বৈঠকে সংকটে থাকা ব্যাংকগুলো তাদের আপতকালীন সংকট মেটাতে ২০ হাজার কোটি টাকা অর্থায়ন সুবিধা দাবি করে।

ব্যাংকিং গাইডলাইনের সাথে সঙ্গতি রেখে সর্বনিম্ন মূলধন বজায় রাখতে না পারলে বিদেশি ব্যাংক এলসি (ঋণপত্র) নিতে নিরুৎসাহ দেখাবে। তাতে দেশেরও ইমেজ ক্ষুণ্ন হবে। এটি একটি জাতীয় ইস্যু। তাই আপত্কালীন সময়ের জন্য ন্যূনতম মূলধন নিশ্চিত করতে বিশেষ সহায়তা চাওয়া হয়েছে। এটি ব্যাংকের ‘জীবন রক্ষায়’ এবং দেশের ‘সম্মান রক্ষায়’।

তবে, জনগণের টাকায় প্রতি বছর ব্যাংকের মূলধন ঘাটতি পূরণের রেওয়াজ থেকে সরকারকে বেরিয়ে আসার প্রস্তাব দিয়েছেন অর্থনীতিবিদরা। এর পরিবর্তে ব্যাংকিং খাতের অরাজকতা বন্ধ ও বিপদে পড়া ব্যাংকগুলোকে একীভূত করতে মার্জার অ্যান্ড অ্যাকুইজিশন আইন প্রণয়নের সুপারিশ করেছেন তারা। পাশাপাশি বাজেটের অর্থ বরাদ্দ-ব্যয়ে স্বচ্ছতা আনা ও আর্থিক খাত সংস্কারের ওপরও জোর দিয়েছেন অর্থনীতিবিদরা।

গতকাল রাজধানীর আগারগাঁওয়ে পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের এনইসি সম্মেলন কক্ষে অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিতের সঙ্গে ২০১৮-১৯ অর্থবছরের প্রাক-বাজেট আলোচনায় এসব প্রস্তাব দেন অর্থনীতিবিদরা।

ব্যাংকিং খাতে অরাজকতা বিরাজ করছে উল্লেখ করে সাবেক অর্থমন্ত্রী এম সাইদুজ্জামান বলেন, ব্যাংকিং খাতের অরাজকতা দীর্ঘদিনের। সরকারের অনেক সফল কাজ এর ফলে ম্লান হয়ে যাচ্ছে। ব্যাংক লুটপাটকারীদের শাস্তি নিশ্চিত করা না গেলে নতুন নতুন ঋণখেলাপি তৈরি হবে। ফলে ব্যাংকগুলো নিয়ে নতুন করে ভাবতে হবে। জনগণের টাকায় ব্যাংকের মূলধন জোগান দেয়ার যে রেওয়াজ, তা থেকে বেরিয়ে আসতে হবে।

অনুষ্ঠানে বেসরকারি গবেষণা প্রতিষ্ঠান সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের (সিপিডি) নির্বাহী পরিচালক ড. ফাহমিদা খাতুন বলেন, সরকারি টাকায় ব্যাংকগুলোয় মূলধন জোগান দেয়া হয়। আর ব্যাংক তা খেয়ে ফেলে। ফারমার্স ব্যাংক তাদের মূলধন খেয়ে ফেলেছে। ব্যাংকটিকে মরে যেতে দেয়া উচিত। জনগণের টাকায় এর মূলধন জোগান দেয়ার কোনো মানে হয় না। তিনি রাজস্ব আহরণ বাড়ানোর পাশাপাশি কর, ভ্যাট ও শুল্ক আইন চাহিদা অনুযায়ী সংস্কারের প্রস্তাব দেন।

এ প্রসঙ্গে ইন্টারন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব ইকোনোমিকস অ্যান্ড পিস-এর প্রেসিডেন্ট এবং বেসরকারি ইবাইস বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতির অধ্যাপক ড. আরিফুর রহমান একই রকম অভিমত প্রকাশ করে বলেন, জনগণের ট্যাক্সের টাকা এসব দুর্দশাগ্রস্ত ব্যাংকে পুনর্ভরণ করা অনৈতিক।

তিনি আরো বলেন, ব্যাংকের বিশাল ঋণখেলাপীর জন্য ব্যাংক কর্মকর্তা, রাজনীতিবিদ, ব্যবসায়ী এবং সরকারি কর্মকর্তাদের একাংশের যোগসাজস দায়ী। এ ব্যাপারে বাংলাদেশ ব্যাংকে আইনের যথাযথ প্রয়োগ নিশ্চিত করতে হবে।

এদিকে, ব্যাকিং সেক্টরের ব্যাপক অনিয়ম ও দুর্নীতির কারণে খেলাপি ঋণ বৃদ্ধি পাচ্ছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০০৮ সাল পর্যন্ত খেলাপি ঋণ ছিল ২২ হাজার ৪৮১ কোটি টাকা। আর গত নয় বছরে সেই ঋণ বেড়ে হয়েছে ৮০ হাজার ৩০৭ কোটি টাকা। এর বাইরে আরও ৪৫ হাজার কোটি টাকার খারাপ ঋণ অবলোপন করা হয়েছে। সব মিলিয়ে খেলাপি ঋণ এখন ১ লাখ ২৫ হাজার কোটি টাকার বেশি। যেখানে নেপালে খেলাপি ঋণের পরিমাণ গড়ে ১ দশমিক ৭১ শতাংশ, সেখানে বাংলাদেশের খেলাপি ঋণের পরিমাণ গড়ে ২৫ শতাংশ। আর বেসিক ব্যাংক ও বিডিবিএলে সেই পরিমাণ ৫০ শতাংশেরও বেশি।

এ ব্যাপারে ব্যাংকিং খাতে আইনের শাসন, স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা প্রায় নির্বাসিত বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। কিন্তু নিয়ন্ত্রণ সংস্থা হিসেবে কেন্দ্রীয় ব্যাংক তার দায়িত্ব পালন করতে পারছে না। এ ক্ষেত্রে আইনের সীমাবদ্ধতা যেমন আছে, তেমনি আছে নজরদারির ঘাটতিও। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কোনো কোনো কর্মকর্তার বিরুদ্ধে দায়িত্বে অবহেলার অভিযোগ পাওয়া গেলেও তাঁদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়ার নজির নেই। রিজার্ভের চুরি যাওয়া অর্থও তারা উদ্ধার করতে পারেনি। কেন্দ্রীয় ব্যাংকটিই যদি দুর্নীতির ঊর্ধ্বে না থাকতে পারে, তাহলে প্রতিষ্ঠানটি অন্যের দুর্নীতি-অনিয়ম কীভাবে ধরবে- এ নিয়েও প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।

বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান চালানোর জন্য একাধিক আইন থাকলেও তার যথাযথ প্রয়োগ নেই। এ কারণেই একের পর এক কেলেঙ্কারি ঘটেছে, খেলাপি ঋণের পরিমাণ সীমা ছাড়িয়েছে, কোনো কোনো ব্যাংক গ্রাহকদের আস্থা হারিয়েছে। এ অবস্থায় সরকারের উচিত ব্যাংকিং খাতের সংকট উত্তরণে কার্যকর ও টেকসই পদক্ষেপ নেয়া।

ব্যাংকিং খাতের বিশৃঙ্খল অবস্থার মধ্যে সরকার আরও তিনটি নতুন ব্যাংকের অনুমতি দিতে যাচ্ছে বলে গণমাধ্যমে খবর এসেছে। মূলধনের অভাবে যেখানে নতুন প্রজন্মের ব্যাংকগুলো চলতে পারছে না, সেখানে নতুন ব্যাংক প্রতিষ্ঠা সংকটকে আরও বাড়াবে। অতএব, নতুন ব্যাংক প্রতিষ্ঠার চিন্তা বাদ দিয়ে চালু ব্যাংকগুলো যাতে ভালোভাবে চলে, সেই উদ্যোগ নেবার পরামর্শ দিয়েছেন অর্থনীতিবিদরা।

Please follow and like us:

About author

Related Articles

Leave a reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Enjoy this blog? Please spread the word :)