সর্বশেষ সংবাদ
December 14, 2017 - আট বছর পর বাংলাদেশে ত্রিদেশীয় সিরিজ
December 14, 2017 - শহীদ বুদ্ধিজীবী স্মৃতিসৌধে খালেদা জিয়ার শ্রদ্ধা
December 14, 2017 - প্রধানমন্ত্রী দেশে ফিরেছেন
December 14, 2017 - শহীদ বুদ্ধিজীবীদের প্রতি রাষ্ট্রপতির শ্রদ্ধা নিবেদন
December 14, 2017 - শ্রদ্ধা আর ভালোবাসায় শহীদ বুদ্ধিজীবীদের স্মরণ
December 14, 2017 - ইউটিউবে খেলনা দেখিয়ে কোটিপতি ছয় বছরের রায়ান
December 14, 2017 - ফরাসি বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চল স্থাপনের প্রস্তাব- প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা
December 14, 2017 - রোহিঙ্গা ইস্যু ওআইসি নীরব থাকতে পারে না-রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ
December 14, 2017 - জলবায়ু সম্মেলন বিশ্বের নজর কাড়লেন মাক্রোঁ
December 12, 2017 - বিচার বিভাগের স্বাধীনতা আবারো প্রশাসনের হাতে গিয়েই পড়লো
রাজধানীর সরকারি-বেসরকারি স্কুলে ভর্তিযুদ্ধ লড়বে ২ লাখ ৫০ হাজার আসনের জন্য

রাজধানীর সরকারি-বেসরকারি স্কুলে ভর্তিযুদ্ধ লড়বে ২ লাখ ৫০ হাজার আসনের জন্য

বছর ঘুরে শুরু হয়েছে রাজধানীর সরকারি-বেসরকারি স্কুলে ভর্তিযুদ্ধ। এ বছর ২ লাখ শিক্ষার্থী ভর্তি পরীক্ষায় অংশ নেবে। কিন্তু আসন আছে ৫০ হাজার। এ নিয়ে দুশ্চিন্তায় আছেন অভিভাবকরা।

বছর শেষ না হতেই রাজধানীবাসীর জন্য নতুন দুশ্চিন্তা সন্তানদের ভালো কোনো বিদ্যালয়ে ভর্তি করা। সন্তানের মেধা, নিজেদের আর্থিক সঙ্গতি, যাতায়াত ও বাসস্থানের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে অক্টোবর-নভেম্বরের মধ্যে শিক্ষার্থীদের নিয়ে দৌড়-ঝাঁপ শুরু হয়। তবে সরকারি শিক্ষাসেবা অপ্রতুল হওয়ায় অধিকাংশ অভিভাবককে ফিরতে হয় বেসরকারি বিদ্যালয়ের দিকেই।

মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তরের (মাউশি) তথ্য অনুযায়ী, ঢাকা মহানগরী তিনটি ফিডার শাখাসহ ৩৮টি সরকারি বিদ্যালয় আছে। এসব স্কুলে প্রথম শ্রেণিতে আসন প্রায় ১০ হাজার। এছাড়া ৪৫৬টি বেসরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয় আছে। সরকারি বিদ্যালয়ে আসন সংখ্যা কম হওয়ায় বরাবরের মতো এবারও বেসরকারি বিদ্যালয়ে ভর্তি হতে হবে শিক্ষার্থীদের।

ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের তথ্য অনুযায়ী, রাজধানীতে প্রথম শ্রেণিতে ভর্তিযোগ্য শিশু রয়েছে প্রায় ২ লাখ। এ হিসেবে প্রথম শ্রেণিতে দেড় লক্ষাধিক শিশু অভিভাবকদের পছন্দের স্কুলে ভর্তি হতে পারবে না।

সরকারি বিদ্যালয়ে আসন সংকট তীব্র হওয়ায় এটাকে সুযোগ হিসেবে নিচ্ছে বেসরকারি বিদ্যালয়গুলো। এক্ষেত্রে নামি-দামি বিদ্যালয়গুলো বাণিজ্যে এগিয়ে যাচ্ছে তরতর করে। নানা অজুহাতে ভর্তি ফিসহ বিভিন্ন খরচের চাপ অসহনীয় রকমের বাড়লেও সন্তানদের ভবিষ্যতে কথা চিন্তা করে অভিভাবকদের তা মেনে নিতে হচ্ছে।

প্রতিবছরের মতো এবারও রাজধানীর মতিঝিল আইডিয়াল স্কুল অ্যান্ড কলেজ, ভিকারুননিসা নূন স্কুল অ্যান্ড কলেজ, মতিঝিল মডেল হাই স্কুল অ্যান্ড কলেজ, উদয়ন উচ্চ মাধ্যমিক বিদ্যালয়, রেসিডেন্সিয়াল মডেল স্কুল অ্যান্ড কলেজ, বীরশ্রেষ্ঠ মুন্সী আ. রউফ পাবলিক কলেজ, বীরশ্রেষ্ঠ নূর মোহাম্মদ পাবলিক স্কুল অ্যান্ড কলেজ, মনিপুর উচ্চ বিদ্যালয়, বিএফ শাহীন স্কুল, রাজউক উত্তরা মডেল কলেজ, হলিক্রস উচ্চ বালিকা স্কুল ও কলেজ, মোহাম্মদপুর প্রিপারেটরি উচ্চ মাধ্যমিক বিদ্যালয়, অগ্রণী স্কুল ও কলেজ, সেন্ট জোসেফ উচ্চ বিদ্যালয়, মোহাম্মদপুর মডেল স্কুল অ্যান্ড কলেজ, উইলস লিটল ফ্লাওয়ার স্কুল অ্যান্ড কলেজ, জুনিয়র ল্যাবরেটরি স্কুল ও কলেজ, গ্রিনফিল্ড স্কুল অ্যান্ড কলেজ, মাইল স্টোন কলেজ, ন্যাশনাল আইডিয়াল স্কুলসহ ৪০টি বেসরকারি স্কুলে ভর্তি নিয়ে অভিভাবকরা রীতিমতো যুদ্ধে নেমে পড়েছেন। কোনো কোনো স্কুলে সময় শেষ হবার অনেক আগেই শেষ হয়েছে ভর্তি ফরম বিক্রি। এদিকে, সরকারি স্কুলে প্রথম শ্রেণির অনলাইন ভর্তি প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে গত ১ জানুয়ারি, তা চলবে ১৪ ডিসেম্বর পর্যন্ত।

রাজধানীর মতিঝিল আইডিয়াল স্কুল অ্যান্ড কলেজের মতিঝিল দিবা শাখার ১ম, ২য়, ৩য় এবং প্রভাতী ও দিবা শিফটের ৪র্থ, ৫ম, ৬ষ্ঠ ৭ম শ্রেণিতে এ বছর ভর্তি করা হচ্ছে না। এছাড়া বনশ্রী শাখার দিবা শিফটে ১ম, ২য়, ৩য় ও ৫ম এবং প্রভাতী শিফটে ৫ম, ৬ষ্ঠ ও ৭ম শ্রেণিতে নতুন শিক্ষার্থী নেওয়া হবে না। মোহাম্মদপুর মডেল স্কুল অ্যান্ড কলেজে তৃতীয় শ্রেণি থেকে ৯ম শ্রেণি পর্যন্ত সীমিত আসনে ভর্তি করা হবে। মোহাম্মদপুর প্রিপারেটরি উচ্চ মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের কোনো শ্রেণিতেই শিক্ষার্থী ভর্তি করবে না। সেন্ট জোসেফ উচ্চ বিদ্যালয়ে শুধু তৃতীয় শ্রেণিতে ভর্তি করবে। রাজউক উত্তরা মডেল কলেজ ৬ষ্ঠ শ্রেণি থেকে ৯ম শ্রেণিতে স্বল্প সংখ্যক শিক্ষার্থী ভর্তি করা হবে।

ঢাকা রেসিডেনসিয়াল মডেল কলেজে তৃতীয় শ্রেণিতে দিবা শাখায় ১০০ জন ও প্রভাতী শাখায় বাংলা ও ইংরেজি মাধ্যমে ৫০ জন করে ভর্তি করা হবে। ৬ষ্ঠ শ্রেণিতে উভয় শিফটে বাংলা ও ইংরেজি মাধ্যমে ৫০ জন শিক্ষারথী ভর্তি করবে। ফলে এ বছর ভালো স্কুলে বিভিন্ন শ্রেণিতে ভর্তিতে প্রতিযোগীর হার বেশি। বিশেষ করে প্রথম শ্রেণিতে ভর্তির জন্য এবারও যুদ্ধে নামতে হবে অভিভাবকদের।

এ বিষয়ে মোহাম্মদপুর প্রিপারেটরি উচ্চ মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের উপাধ্যক্ষ (বালক) মুর্শেদা শাহীন বলেন, আমরা শিক্ষার্থী কমিয়ে কোয়ালিটি বাড়াতে চাই। তাই এ বছর কোনো শ্রেণিতে শিক্ষার্থী ভর্তি করাব না। যেসব শিক্ষার্থী অধ্যয়নরত আছে তারা অন্যত্র চলে গেলেও শূন্য আসনে ভর্তি করা হবে না।

অভিভাবকদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, পছন্দের স্কুলে সন্তানকে ভর্তি করতে প্রতিদিন ছুটছেন বিভিন্ন স্কুলে। একাধিক প্রাইভেট টিউটরসহ সাহায্য নিচ্ছেন বিভিন্ন কোচিং সেন্টারের। কোমলমতি শিশুদের হাতে তুলে দিয়েছেন নিষিদ্ধ ভর্তি গাইড। এর বাইরেও অপকৌশলে ভর্তির উপায়ও খুঁজছেন কেউ কেউ।

Please follow and like us:

About author

Related Articles

Leave a reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Enjoy this blog? Please spread the word :)