সর্বশেষ সংবাদ
December 10, 2018 - জলবায়ু পরিবর্তনের কুপ্রভাব এড়াতে ক্লাইমেট ইঞ্জিনিয়ারিং
December 10, 2018 - শিশু ক্যান্সার রোগী জয়নবের জন্য অতি দুর্লভ রক্তের খোঁজ চলছে সারা দুনিয়ায়
December 10, 2018 - হামাসের কাছে পরাজয় ভোলার মতো নয়: লিবারম্যান
December 10, 2018 - নিরপেক্ষ দায়িত্ব পালনে ম্যাজিস্ট্রেটদের প্রতি সিইসি’র নির্দেশ
December 10, 2018 - মিডিয়া, সুশীল সমাজকে সজাগ দৃষ্টি রাখার আহবান বাংলাদেশে সত্যিকারের অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন ইউরোপীয় দেশগুলো
December 10, 2018 - অপপ্রচারের বিরুদ্ধে এখন থেকে মামলা করব : ফখরুল
December 9, 2018 - বিশ্ব মানবাধিকার দিবস
December 9, 2018 - দুর্নীতি একটি জাতীয় ব্যাধি : প্রধান বিচারপতি
December 9, 2018 - স্থিতিশীল মধ্যপ্রাচ্য প্রতিষ্ঠায় মনোযোগ দিন: নেতানিয়াহুকে পুতিন
December 9, 2018 - আলোচনায় চূড়ান্ত হয়েছে জাপার প্রার্থী তালিকা : রাঙ্গা
রোহিঙ্গাদের গ্রামে সামরিক ঘাঁটি বানাচ্ছে সেনাবাহিনী: অ্যামনেস্টি

রোহিঙ্গাদের গ্রামে সামরিক ঘাঁটি বানাচ্ছে সেনাবাহিনী: অ্যামনেস্টি

আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংগঠন অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল জানিয়েছে, মিয়ানমারের সেনাবাহিনীর নিপীড়নে পালিয়ে আসা রোহিঙ্গাদের গ্রামগুলোতে সামরিক ঘাঁটি ও স্থাপনা নির্মাণের কাজ চলছে। রাখাইন গ্রামগুলো পুড়িয়ে দেয়ার পর সেখানে চলছে সেনা ঘাঁটি, হেলিপ্যাড ও সড়ক নির্মাণের কাজ। এসব অবকাঠামামো নির্মাণের জন্য যাও কিছু রোহিঙ্গা সেখানে ছিল তাদেরকেও জোরপূর্বক তাড়িয়ে দেয়া হচ্ছে।

স্যাটেলাইট থেকে ধারণ করা ছবি ও প্রত্যক্ষদর্শীদের বরাত দিয়ে আজ (সোমবার) প্রকাশিত নতুন এক গবেষণা প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে সংস্থাটি।

অ্যামনেস্টির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, যেসব গ্রাম থেকে মিয়ানমারের সেনাবাহিনীর নির্যাতনে রোহিঙ্গারা পালিয়ে গেছেন সেসব গ্রামেই ওই রোহিঙ্গাদের ফেলে আসা জমি ও ভিটে-বাড়ির উপর ঘাঁটি তৈরি করছে সেনাবাহিনী। এই জানুয়ারি মাসে রোহিঙ্গাদের গ্রামে বহু বাড়িঘর বুলডোজার দিয়ে মাটির সঙ্গে মিশিয়ে দেয়া হয়। তখন থেকেই সেখানে সেনা ঘাঁটির অবকাঠামো নির্মাণের কাজ শুরু করেছে।

নতুন করে সারি সারি ঘর জ্বালিয়ে দেয়া হয়েছে বলেও জানিয়েছে অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল। এর আগে মানবাধিকার সংস্থা হিউম্যান রাইটস ওয়াচও একই ধরনের ঘটনার বর্ণনা দিয়েছিল।

অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনালের একজন মুখপাত্র এটিকে ‘সেনাবাহিনীর ভূমি গ্রাস’ বলে উল্লেখ করেছেন। তবে মিয়ানমারের সরকার অ্যামনেস্টির অভিযোগ সম্পর্কে কোন মন্তব্য করেনি।

এর আগে জানুয়ারিতে অ্যামনেস্টির গবেষণায় রাখাইনে রোহিঙ্গাদের বহু গ্রাম বুলডোজারে জ্বালিয়ে দেয়ার আলামত উঠে এসেছিল। বলা হচ্ছিল, রোহিঙ্গাদের বিরুদ্ধে পরিচালিত সামরিক বাহিনীর নিধনযজ্ঞ আড়াল করতেই গ্রামগুলোতে বুলডোজার চালানো হচ্ছে। এইচআরডব্লিউ’র পক্ষ থেকে অপরাধের আলামতের সুরক্ষায় অবিলম্বে বুলডোজারের ব্যবহার বন্ধের তাগিদ দেয়া হয়েছিল মিয়ানমারকে। একই মাসে ‘দ্যা আরাকান প্রজেক্ট’ নামে সে দেশের স্থানীয় একটি মানবাধিকার পর্যবেক্ষক সংস্থা একই ধরনের অভিযোগ তুলেছিল। তবে নতুন করে অ্যামনেস্টির দেয়া বিবৃতি থেকে জানা গেছে, বুলডোজারে গ্রাম গুঁড়িয়ে দেয়ার সঙ্গে সেনাঘাঁটিসহ বিভিন্ন স্থাপনা নির্মাণেরও সম্পর্ক রয়েছে।

স্যাটেলাইট ইমেজ বিশ্লেষণ করে অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল অন্তত তিনটি নিরাপত্তা ঘাঁটি নির্মাণের ব্যাপারে নিশ্চিত হয়েছে। এগুলোর একটি উত্তর-রাখাইনে। অপর দু`টি মংডু ও বুথিডাউং-এ।

সংস্থাটি ধারণা করছে, জানুয়ারি মাসে ঘাঁটিগুলোর নির্মাণ কাজ শুরু হয়। ক্রাইসিস রেসপন্স ডিরেক্টর তিরানা হাসান বলেন, `সমগ্র গ্রামে বুলডোজার চালানোর ঘটনা খুবই উদ্বেগের। যারা এসব অপরাধকর্মে জড়িত ভবিষ্যতে তাদের বিচারকে কঠিন করে তুলতে মিয়ানমার কর্তৃপক্ষ মানবতাবিরোধী অপরাধের আলামত নষ্ট করছে।

স্যাটেলাইট ইমেজে ডিসেম্বরে সহিংসতা থেমে যাবার পরও নতুন করে চারটি মসজিদ ধ্বংস করে দেয়ার আলামত পেয়েছে অ্যামনেস্টি। একটি রোহিঙ্গা গ্রামে সদ্য ধ্বংস করা মসজিদের অবস্থানে একটি পুলিশের একটি নিরাপত্তা চৌকি স্থাপন হতে দেখেছে সংস্থাটি।

অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনালের সংকট মোকাবিলাবিষয়ক পরিচালক তিরানা হাসান বলেছেন, ‘রাখাইন রাজ্যে সামরিক বাহিনীকে বিপুল পরিমাণে জমি দখল করতে দেখা গেছে। রোহিঙ্গাদের বিরুদ্ধে মানবতাবিরোধী অপরাধ সংঘটনকারী সে একই নিরাপত্তা বাহিনী এখন ঘর তৈরির জন্য নতুন ঘাঁটি স্থাপন করেছে। আর তা রোহিঙ্গাদের স্বেচ্ছায়, নিরাপদে এবং মর্যাদাপূর্ণ প্রত্যাবাসনকে আরও বেশি দূরাশায় পরিণত করে দিচ্ছে। কেবল তাদের বাড়ি-ঘরই নষ্ট হয়নি, বরং নতুন এ নির্মাণ কাজের মধ্য দিয়ে মিয়ানমারে আগে থেকে অমানবিক বৈষম্যের শিকার হয়ে আসা রোহিঙ্গাদের জন্য পুরোনো বাস্তবতাকেই সুরক্ষিত করা হচ্ছে।

ফেব্রুয়ারির তৃতীয় সপ্তাহে সোফরেপ-এর প্রতিবেদনও একই ধরনের তথ্য উঠে এসেছিল। ওই প্রতিবেদন অনুযায়ী, রোহিঙ্গাদের অন্যান্য গ্রামের মতো বুথিডাউং শহরে মিয়ানমার সেনাবাহিনীর সরাসরি কোনও সহিংসতা দেখা যায়নি। তারপরও সেখান থেকে অনেক রোহিঙ্গা পালিয়ে বাংলাদেশে এসেছেন। রাজ্যজুড়ে সেনাবাহিনীর নির্যাতন শুরুর পর পরিবারকে সহিংসতার হাত থেকে বাঁচাতে অনেকে আগেই পালিয়ে গেছেন। এটা দেশজুড়ে চালানো মিয়ানমার সেনাবাহিনীর একটি সাধারণ কৌশল।

Please follow and like us:

About author

Related Articles

Leave a reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Enjoy this blog? Please spread the word :)