সর্বশেষ সংবাদ
April 21, 2018 - বার্ষিক মানবিধিকার রিপোর্ট প্রকাশ, লঙ্ঘনের ঘটনা চরম খালেদা জিয়ার রায়ে নিরপেক্ষতা চায় যুক্তরাষ্ট্র: রাজনৈতিক কারণে কাউকে কারাদণ্ড নয়
April 21, 2018 - রোহিঙ্গা সংকট : বাংলাদেশের প্রতি কমনওয়েলথের সংহতি
April 21, 2018 - নির্বাচনকে ঘিরে সহিংসতা করলে কঠোর ব্যবস্থা
April 21, 2018 - পারমাণবিক এবং ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষা বন্ধের সিদ্ধান্ত কেন নিলেন কিম জং আন
April 21, 2018 - সিরিয়া সংকটের কোনো সামরিক সমাধান নেই: জাতিসংঘ
April 21, 2018 - থ্রি়ডি প্রিন্টারেই কৃত্রিম অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ
April 20, 2018 - আমেরিকার দেয়া সম্মাননা পরবেন না প্রেসিডেন্ট আসাদ
April 20, 2018 - ইউটিউব ভিডিও’র মাধ্যমে ৪০ বছর পর স্বজনের কাছে ফেরালো
April 20, 2018 - বিশ্বকাপ ফুটবল ২০১৮ রাশিয়া বিশ্বকাপে এশিয়ার রেকর্ড
April 20, 2018 - ত্রিভুবন বিমানবন্দরে ফের রানওয়ে থেকে ছিটকে গেল বিমান
সিরিয়া হামলা নিরাপত্তা পরিষদে ব্যর্থ রাশিয়া, বিশ্বজুড়ে প্রতিক্রিয়া

সিরিয়া হামলা নিরাপত্তা পরিষদে ব্যর্থ রাশিয়া, বিশ্বজুড়ে প্রতিক্রিয়া

জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদের জরুরি সভায় সুবিধা করতে পারেনি রাশিয়া৷ সিরিয়ায় মার্কিন নেতৃত্বে মিসাইল হামলার নিন্দা প্রস্তাব পাশও হয়নি৷ তবে যুক্তরাষ্ট্র ও গ্রিসে হামলার প্রতিবাদে রাস্তায় নেমেছেন হাজারো মানুষ৷

নিরাপত্তা পরিষদের জরুরি বৈঠক

সিরিয়ায় মার্কিন নেতৃত্বে ফান্স ও যুক্তরাজ্যের ক্রুজ মিসাইল হামলার পর জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদের জরুরি বৈঠকের ডাক দিয়েছিল রাশিয়া৷ শনিবারের নিউ ইয়র্কে সংস্থাটির সদরদপ্তরে অনুষ্ঠিত ঐ বৈঠকে হামলার ঘটনায় একটি নিন্দা প্রস্তাব পাশের আহ্বান জানিয়েছিল তারা৷

সমর্থন পায়নি রাশিয়া
নিরাপত্তা পরিষদের সভায় রাশিয়ার বক্তব্য ছিল যে, যুক্তরাষ্ট্র ও তার মিত্ররা সিরিয়ায় হামলা চালিয়ে আন্তর্জাতিক আইন ভঙ্গ করেছে৷ তাই এই হামলার নিন্দা জানিয়ে অচিরেই সিরিয়ায় তাদের আগ্রাসন বন্ধ করতে হবে৷
কিন্তু তাদের সেই প্রস্তাব পাশ করেনি নিরাপত্তা পরিষদ৷ কারণ, পরিষদের ১৫ সদস্য রাষ্ট্রের মধ্যে শুধুমাত্র চীন ও বলিভিয়া তাদের সমর্থন দিয়েছে৷ বাকি ১২টি রাষ্ট্রের মধ্যে আটটি তাদের প্রস্তাবের বিপক্ষে ভোট দিয়েছে৷ আর চারটি রাষ্ট্র কোনো প্রকার ভোট দেয়া থেকে বিরত থেকেছে৷
মিসাইলের অবশিষ্ট

পাল্টাপাল্টি অভিযোগ
যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য ও ফ্রান্সের অভিযোগ হলো, গত সপ্তাহে সিরিয়ার পূর্ব গুটায় বিদ্রোহী নিয়ন্ত্রিত সর্বশেষ শহর ডুমায় ‘রাসায়নিক হামলা’ চালিয়েছে বাশার আল-আসাদের বাহিনী৷ তাই দেশটির সরকার নিয়ন্ত্রিত বিভিন্ন স্থাপনায় একযোগে আক্রমণ করেছে তারা৷ তাদের দাবি, যেসব স্থানে এ সব রাসায়নিক অস্ত্র তৈরি বা মজুদ করা হয় সেখানেই হামলা চালানো হয়েছে৷
অন্যদিকে, আসাদ সরকারের মিত্র রাশিয়া আঙুল তুলেছে যুক্তরাজ্যের দিকে৷ তাদের দাবি, গত সপ্তাহে সিরিয়ায় যে রাসায়নিক হামলা হয়েছে তা মঞ্চায়িত করেছে এই দেশটি৷ তারা রাসায়নিক হামলার তদন্ত করছিল৷

কিন্তু রাশিয়া ও সিরিয়ার দাবি কোনোভাবেই ধোপে টেকেনি৷ ন্যাটোর ২৯ সদস্যরাষ্ট্রের প্রত্যেকেই এই মিসাইল হামলার সমর্থন করেছে৷
হামলাকারী তিন দেশেরই দাবি, সিরিয়ার রাসায়নিক অস্ত্র কারখানাগুলো ধ্বংস করতে যে হামলা তারা করেছে, তা সফল হয়েছে৷ শিগগিরই তারা জাতিংঘে এ বিষয়ে একটি প্রতিবেদন জমা দেবে৷

দ্বিধাবিভক্ত বিশ্ব
এদিকে, সিরিয়ায় মিসাইল হামলা নিয়ে গোটা বিশ্বে দেখা দিয়েছে দ্বিধাবিভক্তি৷ অনেক রাষ্ট্র ও সংস্থা সরাসরি সিরিয়ায় রাষ্ট্রত্রয়ীর মিসাইল হামলাকে সরাসরি সমর্থন করেছে৷ অনেকে আবার পরোক্ষভাবে সমর্থন করতে গিয়ে এক সপ্তাহ আগের রাসায়নিক হামলার সমালোচনা করেছে৷
রাশিয়া ছাড়া এই হামলার নিন্দা করেছে ইরান, চীন ও ইরাক৷
ইরানের সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি বলেছেন, ‘‘সিরিয়ায় হামলাটি একটি অপরাধ৷” হামলাকারী তিন দেশের প্রেসিডেন্টকে ‘অপরাধী’ হিসেবে উল্লেখ করে তিনি বলেছেন, ‘‘এর থেকে কিছুই হাসিল করতে পারবে না তারা৷”

চীন অবশ্য একটু সতর্কতার সঙ্গেই প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে৷ তাদের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক মুখপাত্র বিবৃতিতে জানিয়েছেন, ‘‘আন্তর্জাতিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে জোর খাটানোর বিরোধিতা সব সময়ই করে আসছে চীন৷ আমরা মনে করি, সিরিয়ার সমস্যা একমাত্র রাজনৈতিকভাবেই সমাধান সম্ভব৷”
ইরাক সতর্ক করে দিয়ে বলেছে যে, এমন একটি হামলার পরিণতি ‘ভয়াবহ’ হতে পারে৷ এটি নতুন করে এ অঞ্চলে জঙ্গিবাদকে উসকে দিতে পারে৷
অনেক রাষ্ট্রই সমর্থন দিয়েছে এ হামলাকে৷ বিশেষ করে জার্মানিসহ ইউরোপের বিভিন্ন দেশ এবং ইউরোপীয় ইউনিয়ন ও ক্যানাডা সমর্থন দিয়েছে৷ তবে জার্মানি ও ক্যানাডা এ হামলায় অংশ নেবে না বলে আগেই জানিয়েছে৷
জার্মানির চ্যান্সেলর আঙ্গেলা ম্যার্কেল ও ক্যানাডা প্রেসিডেন্ট জাস্টিন ট্রুডো উভয়ই এই হামলাটি ‘জরুরি ছিল’ বলে মন্তব্য করেছেন৷
এদিকে, তুরস্ক ও ইসরাইলও সমর্থন দিয়েছে এই হামলাকে৷ তারা রাসায়নিক হামলার বিষয়টি তুলে ধরে বলেছে যে, যুক্তরাষ্ট্রের নেতৃ্ত্বে এই হামলার দরকার ছিল৷ আর জাতিসংঘের মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস রাসায়নিক হামলার নিন্দা করলেও সব পক্ষকে ‘শান্ত’ থাকার আহ্বান জানিয়েছেন৷

লস অ্যাঞ্জেলসেও প্রতিবাদ

গ্রিস ও যুক্তরাষ্ট্রে প্রতিবাদ
হাজারো গ্রিক নাগরিক রাজধানী এথেন্সে সিরিয়ায় হামলার প্রতিবাদে রাস্তায় নেমেছেন৷ দেশটির কমিউনিস্ট পার্টির উদ্যোগে এই সমাবেশ থেকে মার্কিন নেতৃত্বাধীন হামলার তীব্র প্রতিবাদ জানানো হয়৷
শনিবার তারা শহরের কেন্দ্রে জড়ো হয়ে পরে মার্কিন দূতাবাসের দিকে এগিয়ে যান৷ এ সময় তাদের হাতে, ব্যানারে নানা ধরনের প্রতিবাদী বক্তব্য লেখা ছিল৷ অনেকেই দেয়ালে, ফুটপাথে লাল কালিতে লেখেন, ‘অ্যামেরিকানরা খুনি’৷

পুলিশের বাধায় অবশ্য বিক্ষোভকারীরা মার্কিন দূতাবাসের দিকে যেতে পারেননি৷
একই রকমের প্রতিবাদ হয়েছে ওয়াশিংটনেও৷ হোয়াইট হাউজের সামনে নানান প্ল্যাকার্ড নিয়ে জড়ো হন বিপুল সংখ্যক প্রতিবাদকারী৷ তারা হামলার প্রতিবাদ জানান এবং সিরিয়ায় আগ্রাসন বন্ধের দাবি জানান৷

Please follow and like us:

About author

Related Articles

Leave a reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Enjoy this blog? Please spread the word :)