সোনার মানুষ হবার প্রত্যয়ে মঙ্গল শোভাযাত্রা

সোনার মানুষ হবার প্রত্যয়ে মঙ্গল শোভাযাত্রা

‘মানুষ ভজলে সোনার মানুষ হবি’ প্রতিপাদ্য ও মর্মবাণী ধারণ করে সম্পন্ন হয়েছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা অনুষদের আয়োজনে মঙ্গল শোভাযাত্রা।

শনিবার (১৪ এপ্রিল) পহেলা বৈশাখের দিন সকাল ৯টায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি অধ্যাপক ড. আখতারুজ্জামান এবং সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রী আসাদুজ্জামান নূরের উপস্থিতিতে মঙ্গল শোভাযাত্রা শুরু হয়। আর সকাল ১০টার দিকে এ শোভাযাত্রা শেষ হয়।

চারুকলার গেট দিয়ে বের হয়ে টিএসসি ঘুরে রূপসী বাংলা হোটেলের সামনের রাস্তা দিয়ে ফের চারুকলায় শোভাযাত্রা ফিরে আসে। এ সময় ঢাবি’র শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের পাশাপাশি হাজারো মানুষ অংশ নেন এই শোভাযাত্রায়।

মঙ্গল শোভাযাত্রাকে ঘিরে নেওয়া হয় ব্যাপক নিরাপত্তা ব্যবস্থা। পুলিশ ও র‌্যাবসহ বিভিন্ন আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা শোভাযাত্রার চারপাশে দায়িত্ব পালন করেন।

শোভাযাত্রায় অংশ নিতে শনিবার সকাল থেকেই ঢাবি ক্যাম্পাসের দিকে ছিল মানুষের ঢল। শোভাযাত্রা শুরু হওয়ার পরও অনেকেই ক্যাম্পাসের বিভিন্ন স্থান থেকে এতে অংশ নিয়েছেন।

মা পাখি সাথে ছানা, হাতি, মাছ ও বক, মহিষ, সূর্য, টেপা পুতুল এবং সাইকেলে মা ও মেয়ে- এবার শোভাযাত্রায় এই ৭টি মোটিফ স্থান পেয়েছে।

২০১৬ বছরের নভেম্বর মাসে জাতিসংঘের সংস্থা ইউনেস্কোর সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যে্র তালিকায় স্থান করে নিয়েছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা ইনস্টিটিউটের উদ্যোগে হওয়া এ শোভাযাত্রা।

বাঙালির প্রাণের উৎসব পয়লা বৈশাখের অপরিহার্য অনুষঙ্গ হয়ে উঠেছে মঙ্গল শোভাযাত্রা। মিলেছে আন্তর্জাতিক স্বীকৃতিও। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা ইনস্টিটিউটের উদ্যোগে ১৯৮৯ সাল থেকে শুরু হয়েছিল মঙ্গল শোভাযাত্রা। শুরু থেকেই চারুকলার শোভাযাত্রাটির নাম মঙ্গল শোভাযাত্রা ছিল না। তখন এর নাম ছিল বর্ষবরণ আনন্দ শোভাযাত্রা। ১৯৯৬ সালে এর নাম হয় মঙ্গল শোভাযাত্রা।

বর্ষবরণ উপলক্ষে আনন্দ শোভাযাত্রা চারুকলায় ১৯৮৯ সালে শুরু হলেও এর ইতিহাস আরও কয়েক বছরের পুরনো। ১৯৮৫ বা ১৯৮৬ সালে চারুপীঠ নামের একটি প্রতিষ্ঠান যশোরে প্রথমবারের মতো নববর্ষ উপলক্ষে আনন্দ শোভযাত্রার আয়োজন করে। যশোরের সেই শোভাযাত্রায় ছিল পাপেট, বাঘের প্রতিকৃতি, পুরানো বাদ্যসহ আরও অনেক শিল্পকর্ম। শুরুর বছরেই যশোরে সেই শোভাযাত্রা আলোড়ন তৈরি করে।

যশোরের সেই শোভাযাত্রার উদ্যোক্তাদের একজন মাহবুব জামাল শামীম মাস্টার্স ডিগ্রি নিতে পরে ঢাকার চারুকলায় চলে আসেন। পরবর্তীতে যশোরের সেই শোভাযাত্রার আদলেই ঢাকার চারুকলা থেকে শুরু হয় বর্ষবরণ আনন্দ শোভাযাত্রা।

Please follow and like us:

About author

Related Articles

Leave a reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Enjoy this blog? Please spread the word :)